লেখক : মো: ওয়াসিব মারজান।
সাভার, ঢাকা, এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা। মাত্র ২৭ বছর বয়সে মেরুদণ্ডে গুরুতর আঘাত পেয়ে রাফির (ছদ্মনাম) পুরো জীবনটাই যেন ওলটপালট হয়ে গেল। শারীরিক অচলাবস্থা আর হুইলচেয়ারবন্দী জীবনকে যেন আরও অবর্ণনীয় করে তুলল একটি নতুন সংকট, তিনি তাঁর নিজের কণ্ঠস্বরই হারিয়ে ফেলছিলেন। কথা বলতে গেলে স্বর ভাঙে, শ্বাস আটকে আসে, শব্দ করতে কষ্ট হয়। নিজের কষ্টের কথাগুলো তিনি প্রকাশ করতে পারছিলেন না। এই অবস্থায় তিনি নিজেকে গুটিয়ে নিতে শুরু করলেন, পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকেও দূরে সরে যান।
কিন্তু হাল ছাড়েননি রাফি। চিকিৎসকের পরামর্শে তিনি পৌঁছান সাভারের ‘সেন্টার ফর দ্য রিহ্যাবিলিটেশন অব দ্য প্যারালাইজড (সিআরপি)’ এর স্পিচ অ্যান্ড ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপি বিভাগে। এখানে থেরাপি চিকিৎসকের সহযোগিতায় শুরু হয় তাঁর নতুন এক লড়াই, কণ্ঠস্বর এবং আত্মবিশ্বাস ফেরানোর লড়াই। নিয়মিত শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম, ভয়েস থেরাপি ও যোগাযোগের কৌশল রপ্ত করার মাধ্যমে ধীরে ধীরে ফিরতে শুরু করে তাঁর স্বরযন্ত্রের ক্ষমতা। কয়েক মাসের মধ্যেই রাফির কণ্ঠস্বর আগের চেয়ে স্পষ্ট হয়, ফিরে পেতে শুরু করেন স্বাভাবিক জীবনের আত্মবিশ্বাস।
সিআরপি এর স্পিচ অ্যান্ড ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপি বিভাগের থেরাপি চিকিৎসক মো: মনির হোসেন বলেন, “স্পাইনাল কর্ড ইনজুরি শুধু হাঁটতেই বাধা দেয় না, এটি শ্বাস নেওয়া এবং কথা বলার ক্ষমতাকেও ব্যাহত করে। আমাদের কাজ কেবল রোগীদের আবার কথা বলানোর চিকিৎসা নয়, তাদের মনোবল ফিরিয়ে দেওয়া, যাতে তারা সমাজে স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারে।”
৫ সেপ্টেম্বর বিশ্ব স্পাইনাল কর্ড ইনজুরি দিবস। এবারের প্রতিপাদ্য ছিল “পতন প্রতিরোধ করুন, মেরুরজ্জু সুরক্ষিত রাখুন”। এই দিবসটি আমাদের সচেতন করে শারীরিক পুনর্বাসনের পাশাপাশি কথা বলা, মনোবল, আর সামাজিকভাবে ফিরে আসাটাও সমান ভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
জীবন যখন অন্ধকারে ডুবে যায়, যখন নিজের কণ্ঠই নিজেকে ছেড়ে চলে যায়, তখনও আশার আলো দেখান স্পিচ অ্যান্ড ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপি চিকিৎসক। উনারা শুধু চিকিৎসক নন, তারা জীবন-যোদ্ধাদের পুনর্জীবন দানকারী বন্ধু।
চতুর্থ বর্ষ, স্পিচ অ্যান্ড ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপি বিভাগ
বাংলাদেশ হেলথ প্রফেশনস ইনস্টিটিউট
সেন্টার ফর দ্য রিহ্যাবিলিটেশন অব দ্য প্যারালাইজড (সিআরপি), সাভার, ঢাকা।